কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কক্সবাজার থেকে কথিত প্রেমিক আটক
ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। রাজু ওই এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, তাজমিন হত্যা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজুকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু তাজমিনকে প্রলুব্ধ করে কক্সবাজারে নিয়ে এসেছিলেন। তাকে কুমিল্লার মামলায় আসামি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজারে পৌঁছান তাজমিন। ওই দিন কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তিনি। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে অবস্থান করতে রাজু তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যান তাজমিন।
রাজুর দাবি, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন। পরদিন তাজমিন একাই কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন। আটকের আগে একটি জাতীয় গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন রাজু।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাসিন্দা ছিল। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।