বরগুনায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ডেইলি সান রিপোর্ট, বরগুনা
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ এএম
বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন। মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২৮ জনকে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
গত বৃহস্পতিবার আমতলীর মহিষকাটা এলাকার ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে মামলা হয়।
মামলার অভিযোগকারী রিয়াজুল কবির মুন্সী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, স্লোগান দেন এবং অস্ত্র নিয়ে কলেজের ফটক ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, চারজনকে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ঘটনার সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপির কার্যালয়ে তাঁদের নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফকির। তার দাবি, অনুষ্ঠানটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা তাঁদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, আটক চারজনের মধ্যে তিনজন কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের একজন সাইফুল ইসলাম কাজী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, মামলায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।