কপ৩১-এ বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে তরুণদের প্রস্তুত করছে বিওয়াইএলসি ও পরিবেশ অধিদপ্তর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ সামনে রেখে তরুণদের প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও পরিবেশ অধিদপ্তর। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে আজ শনিবার ঢাকায় একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
‘ক্লাইমেট চেঞ্জ নেগোশিয়েশন’ শীর্ষক কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বিওয়াইএলসি, পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং অ্যালায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এএসডিএফ)। ঢাকায় বিওয়াইএলসির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জলবায়ু নিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৫০ জনের বেশি তরুণ অংশ নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কপ৩১-এ অংশ নেবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তাই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার ফলাফল দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যেই সারাদেশে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আয়োজকেরা বলেন, এসব প্রভাব নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে হবে তরুণদের। তাই জলবায়ু বিষয়ে তাদের জ্ঞান থাকা জরুরি। বৈশ্বিক আলোচনা কীভাবে হয়, নির্গমন কোথা থেকে আসে এবং বিশ্ব কীভাবে এর মোকাবিলা করছে, তা তাদের বুঝতে হবে।
কর্মশালার সেশনগুলোতে ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়া, প্যারিস চুক্তি, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আলোচনার কৌশল অনুশীলন করেন এবং বাংলাদেশের জলবায়ু চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপদেষ্টা ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমদ।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশগুলোর অগ্রাধিকার, সমঝোতা ও ফলাফল বুঝতে অতীতের কপ আলোচনাগুলো অধ্যয়ন করুন। বাংলাদেশের জন্য আরও ন্যায়সংগত ও জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আলোচনায় এই শিক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী তরুণ আলোচকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের জলবায়ু আলোচনার কৌশল শিখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আওয়াজ তুললেই অর্থবহ পরিবর্তন আসে না। অন্যের কথা শোনা, মতের মিল তৈরি করা এবং সবার জন্য কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার মধ্য দিয়ে তা আসে।’
বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারপারসন ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশের জন্য জলবায়ু বিষয়ে জ্ঞান থাকা এখন আর ঐচ্ছিক নয়। প্রত্যেক তরুণ বাংলাদেশিকে জলবায়ুবিজ্ঞান, নির্গমন কোথা থেকে আসে, কীভাবে আমরা তা কমাতে পারি, কীভাবে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে এবং জলবায়ু অর্থায়ন কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে হবে। বৈশ্বিক আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে আমাদের তরুণদের জীবনকে প্রভাবিত করবে। এসব সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখার জন্য তাদের জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। এই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা এমন একটি প্রজন্মকে প্রস্তুত করছি, যারা এই শতাব্দীর জলবায়ু চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’
সেশনগুলো পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিআরএল) মো. জিয়াউল হক; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ মেহেদী; এবং এএসডিএফের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুব হাসান।
বিওয়াইএলসি ও এর সহযোগীরা বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে জলবায়ু বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতা গড়ে তুলতে এবং জাতীয় জলবায়ু নীতিনির্ধারণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চায়। কপ৩১ ও পরবর্তী সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করাই তাদের লক্ষ্য।
বিওয়াইএলসি দেশের প্রথম নেতৃত্ববিষয়ক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা তরুণদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা, তাদের নেতৃত্বের দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা এবং সরকারি, বেসরকারি ও নাগরিক খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখার উপযোগী করে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে সমাজে সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তি জোরদার করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য।