EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নেত্রকোনার ৪০ নারী

বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে পাওয়া এসব মেশিন তাঁদের কাছে শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ এএম

বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নেত্রকোনার ৪০ নারী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন নেত্রকোনার ৪০ অসচ্ছল নারী। বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে পাওয়া এসব মেশিন তাঁদের কাছে শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ। ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে আয় বাড়ানো এবং পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

‘বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আজ একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার।

তাঁর মতো বারহাট্টা উপজেলার আরও ১৯ জন অসচ্ছল নারী তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। একইভাবে নেত্রকোনা সদর উপজেলার আরও ২০ নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সম্প্রতি বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ ও মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র হয়ে না থেকে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করুক।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঘরে বসে কাজ করে আয় করার পাশাপাশি তাঁরা পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।

অন্যদিকে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে আরও ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আলপনা বেগম, নিউজ২৪-এর প্রতিনিধি সোহান আহমেদ কাকন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এবাদ হোসেন ও শুভসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম টনি প্রমুখ।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মিতু আক্তার নেত্রকোনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। তাঁর বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান।

মিতু বলেন, ‘বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ। বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক ধন্যবাদ।’

এদিকে, ইতি রানী দাসের স্বামী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। তাঁর আয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হওয়ায় স্বামীর পাশাপাশি নিজেরও আয় করার তাগিদ ছিল ইতির। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিনকে তিনি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন