ভুল ওষুধে নষ্ট ১৬ লাখ টাকার টমেটো ক্ষেত, হাসপাতালে কৃষক
ডেইলি সান রিপোর্ট, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগে ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। ক্ষেতের এমন অবস্থা দেখে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের। আগাম জাতের টমেটো চাষে ঋণ করে বিনিয়োগ করেছিলেন গিরিধন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফসল বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখলেও এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গিরিধনের ভাই এবং সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে গত ৭ অক্টোবর গিরিধন মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ কেনেন। পরে জমিতে তা স্প্রে করার পর টমেটো গাছগুলো সাদা হয়ে যায়। অনেক গাছের গোড়ায় পচন ধরে এবং পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গিরিধন আগাম টমেটো চাষের জন্য এনজিও ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক চাপের মধ্যে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন তিনি।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কীভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করা যায়, তা-ও দেখা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, কৃষক কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগ করায় টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করে প্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমিতে প্রয়োগের আগে ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।
