মাহ্দী আমিন
স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে চায় সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্থপতিরা যেন দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, সে জন্য তাদের ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্থাপত্য শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার জন স্থাপত্যে স্নাতক সম্পন্ন করছেন। এসব তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি করার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের স্থপতিরা যেন দেশেই শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অবদান রাখতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, স্থাপত্য একটি বিশেষায়িত, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী পেশা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্থাপত্যের মাধ্যমে একটি সময়ের বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণ রাখাও জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থপতিদের মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের পেশাগত বিকাশের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন বা স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মেধার ঘাটতি বাংলাদেশের স্থপতিদের অগ্রগতির বাধা নয়; বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের উপযুক্ত পথ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনে ‘ক্যানবেরা অ্যাকর্ড’-এর উপস্থিতিকেও স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম আধুনিক ও বাস্তবমুখী করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত বই, লাইব্রেরি, স্টুডিও ও স্থাপত্যের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ কিংবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থাপত্য শিক্ষার জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দের মতো উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
স্থপতিদের পেশাগত মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্থপতিরা যেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে আধুনিক স্থাপত্যচর্চা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো তাদের আইকনিক স্থাপনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বাংলাদেশের স্থপতিদেরও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরে এমন স্থাপনা নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরবে।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি খাত প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাতকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে আইএবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সমর্থন থাকবে বলেও জানান তিনি।