চিঠির যুগ পেরিয়ে ডিজিটাল বার্তা: আজ বিশ্ব ডাক দিবস
ডেইলি সান ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। ১৮৭৪ সালের এই দিনে সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে ইউরোপের ২২টি দেশের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে ‘জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন’ গঠিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘বিশ্ব ডাক ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
এবছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘এক ডাক নেটওয়ার্ক, অসীম সম্ভাবনা’। বিশ্বব্যাপী ডাক যোগাযোগকে সহজ, সমৃদ্ধ ও সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিবসটি বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়ে আসছে।
১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সেল ডাক ইউনিয়নের ১৬তম অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য আনন্দ মোহন নারুলা ৯ অক্টোবরকে ‘বিশ্ব ডাক ইউনিয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত ১৯তম অধিবেশনে নাম পরিবর্তন করে এটি বর্তমানের ‘বিশ্ব ডাক দিবস’ হিসেবে রূপ নেয়। তখন থেকেই বৈশ্বিকভাবে এটি পালিত হয়ে আসছে।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রযাত্রায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের ফলে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এক সময়ের চিরচেনা ডাক পিয়নের অপেক্ষা কিংবা প্রিয়জনের চিঠির আবেগ এখন অতীত।
এখন মোবাইল ফোনেই প্রতিমুহুর্তে পাঠানো যায় হাজারো এসএমএস। চিঠির জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ক্ষুদে বার্তা। ফেসবুক ও ফোনের ইনবক্সই এখন আধুনিক যুগের চিঠি।
বর্তমানে ডাকঘরগুলোতে পারিবারিক চিঠি না আসলেও সরকারি নথিপত্র, আদালতের নোটিশ, ব্যাংক ও ভূমি অফিসের নথিপত্রই বেশি আসছে।
এই বাস্তবতায় চিঠি পরিবহনের ঐতিহ্যবাহী ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এখন পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে বিশেষ জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সম্প্রতি দ্রুত পার্সেল আদান-প্রদানের আধুনিক সেবা ‘স্পিড পোস্ট’-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
‘স্পিড পোস্ট’ হলো ডাক বিভাগের একটি দ্রুতগতির পার্সেল পরিবহন সেবা। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে পণ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পার্সেল বুকিং নিয়ে নিজস্ব পরিবহন নেটওয়ার্কের সাহায্যে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রাহকদের সুবিধার্থে এতে রয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং সুবিধা।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত সাত মাসে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য সফলভাবে পরিবহন করা হয়েছে। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে-জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ৪৮ ঘণ্টা এবং প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্পিড পোস্ট সেবায় আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। শুধু গত আমের মৌসুমেই আমরা ৩০০ টনের বেশি মৌসুমি ফল পরিবহন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের হোম ডেলিভারি ও ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা দেওয়া, যার পাইলটিং কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের সুবিধার্থে ঘরে বসে অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’
একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জনবান্ধব লজিস্টিকস সেবা গড়ে তুলতে ডাক বিভাগ ই-কমার্স সক্ষমতা বৃদ্ধি, পার্সেল পিকআপ এবং ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলেও ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকায় দেশজুড়ে পার্সেল পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।
বর্তমানে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ওজনের পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। গত ১ অক্টোবর থেকে প্রতি কেজি পার্সেলের জন্য ৮ টাকা এবং এসএমএস ও ফোন নোটিফিকেশনের জন্য অতিরিক্ত ১ টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা জিপিও, গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল জমা দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।