রংপুরের চার খুনের ঘটনায় সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর ডিএনএ মিলেছে: সিআইডি
ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ এএম
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় সিআইডির সংগ্রহ করা আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির রংপুর অফিসের বিশেষ পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি ৩৫টি আলামত জব্দ করেছিল। এর মধ্যে কামড়ানো খেজুর, খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও সিগারেটের মুড়িতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া গেছে। এসব আলামতে শুধু দুজন পুরুষের ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফলাফলে হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর সংশ্লিষ্টতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য তাদের ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তিন দফায় নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাব পরীক্ষায় কয়েকটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ শনাক্ত হওয়ার পর তাদের নমুনার সঙ্গে সেগুলোর ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়।
গত ২১ আগস্ট ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তবে গ্রেপ্তারের নয় দিন পর কারাগার থেকে তাদের ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করে ডোপ টেস্ট করা হলে শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সীমান্ত, বিদ্যুৎ ও শান্ত নামের তিনজনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ বলেন, সিআইডির ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর সংশ্লিষ্টতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শেষে মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হবে।
