ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গুল খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ফরিদপুর
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর জোর করে তামাকজাত পদার্থ ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় সাড়ে সাত বছর পর মামলাটির বিচারকাজ শেষ হলো।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন জিল্লুর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো।
২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে স্বজনেরা জানতে পারেন, দুপুর ১টার দিকে স্বামীর বাড়িতে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা আলফাডাঙ্গায় জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানের চৌকির ওপর তার মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় অপমৃত্যু ও হত্যা মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তভার পান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন। তদন্ত ও ময়নাতদন্তে উঠে আসে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়; বরং জোর করে বিষাক্ত উপাদান খাইয়ে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত নিকোটিনের তীব্র বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে তামাকজাত ‘গুল’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। চিকিৎসকের চূড়ান্ত মতামত অনুযায়ী, বিষক্রিয়ার কারণে মারাত্মক শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
তদন্ত শেষে এসআই নাজিমুদ্দিন জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের কারণে গৃহবধূকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় দৃষ্টান্তমূলক। এ ধরনের রায় যৌতুকলোভী ও নির্যাতনকারীদের জন্য কঠোর বার্তা দেবে।