EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়, স্রষ্টাও হওয়া: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়, স্রষ্টাও হওয়া: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
অ অ

বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়; প্রযুক্তির স্রষ্টা, মালিক ও রপ্তানিকারক হওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) প্রধান ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হলে হবে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হিসেবেও বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ফেরদৌস শাহরিয়ার অডিটোরিয়ামে ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জিআইইউ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অল্প কয়েকটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এখনই আয়ের উৎস বহুমুখী করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন বা অন্য কোনো সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। তার মতে, প্রযুক্তি ও সেবা খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এআইকে শুধু সরকারি কাজ দ্রুত করার প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে হবে না। এআই, সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাংলাদেশের জন্য বিলিয়ন ডলার আয়ের বড় খাত হতে পারে।

তিনি বলেন, ছোট দেশ হয়েও ইসরায়েল হাজার হাজার প্রযুক্তি কোম্পানি এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও মেধাবী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একইভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্প্রতি বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সিলিকন ভ্যালি সফরের প্রসঙ্গ তুলে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, অ্যাপল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। 

অ্যানথ্রপিকও বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উইংকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। নতুন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সঙ্গে এসব উইংকে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়; প্রযুক্তির স্রষ্টা, মালিক ও রপ্তানিকারক হওয়া।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য কার্যকর এআইভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। দেশে তৈরি এসব প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন