কেএনএফে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রধান নাথান বম। ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরিতে ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর এ মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন—কেএনএফ প্রধান নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বম, মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম ও মো. মতিউর রহমান।
সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে সিএমপির একটি বিশেষ দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গোডাউন ও গার্মেন্টস কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং একটি কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।
এরপর ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস ও প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা প্রথমে নিয়াজ হায়দার এবং পরে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ ফ্যাব্রিক তৈরির ব্যবস্থা করেন।
এ জন্য ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি পারচেজ অর্ডারের মাধ্যমে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের মাধ্যমে ইউনিফর্ম সেলাই বাবদ আরও ৭২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্ম তৈরির জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সিআইডির দাবি, অনুসন্ধানে নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা কেএনএফের জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়নে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
মামলাটির তদন্তে কেএনএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অর্থের উৎস ও প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
