EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিমানমন্ত্রী

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিতে বিমানের আধুনিকায়নের পথ খুলল

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিতে বিমানের আধুনিকায়নের পথ খুলল
অ অ

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কার্যকর একটি এয়ারলাইন হিসেবে গড়ে তোলার পথ খুলেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশপথের চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী অন্য এয়ারলাইনস ব্যবহার করেন। এ কারণে যাত্রীদের আরও ভালো সেবা দিতে বিমানের নিজস্ব বহর বাড়ানো ও আধুনিকায়ন জরুরি।

এয়ারবাসের নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হলে এর সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করা এবং বিভিন্ন রুটের চাহিদা ও যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহর পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

এয়ারবাসের আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হোক।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িংয়ের সঙ্গেও কাজ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানের বহর, রুট ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এ প্রকল্পে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কার্গো ও মেইলকে উচ্চঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ দূর করতে বাংলাদেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর পেয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহনের ওপর থাকা বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে নিতে এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চান তিনি।

বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নতুন এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বহরকে শক্তিশালী করলেও শুধু উড়োজাহাজ দিয়ে একটি এয়ারলাইনকে সফল করা সম্ভব নয়। বিমানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কর্মীদের পেশাদারত্ব, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ওপর। নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরি।

আরও পড়ুন