EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের কঠিন শর্তের ঋণ অনুমোদন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের কঠিন শর্তের ঋণ অনুমোদন
অ অ

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনমনীয় বা কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন করেছে সরকার।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের (এসসিএনসিএল) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অনুমোদিত ঋণের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় ২০০ মিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এডিবি থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

ইআরডির কার্যপত্র অনুযায়ী, এ ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ স্প্রেড যোগ করে নির্ধারণ করা হবে। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম এবং শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে।

এডিবির খসড়া চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঋণটির গ্রান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্রান্ট এলিমেন্ট ২৫ শতাংশের কম হওয়ায় এটি অনমনীয় ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে কারিগরি লোকসান কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি আমদানিতে ৩.১ বিলিয়ন ডলার

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আইটিএফসি থেকে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পমেয়াদি ঋণও অনুমোদন করেছে এসসিএনসিএল। এটি ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানিতে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানিতে ৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এই ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় এ হার কিছুটা কম।

৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়নের মধ্যে আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার দেবে। বাকি ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।

জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন জরুরি হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিটি ঋণটির ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।

ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের শর্ত

অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের ডেবট সার্ভিসিং ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। একই সঙ্গে মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বা ডেবট স্টক জিডিপির ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত রয়েছে।

ইআরডি বলছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন