দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা
সাভারের ২৩৮ মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা, নারী স্বেচ্ছাসেবক ও অগ্নিনিরাপত্তার নির্দেশ; গুজব ছড়ানোর আগেই প্রতিরোধে জোর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সাভারে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ডিসি ফরিদা খানম। ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় জানানো হয়, এবার সাভার উপজেলায় ২৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি, শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৪০টি ও পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩০টি মণ্ডপ রয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ডিসি বলেন, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমা নির্মাণ থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
অগ্নিনিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলো, চার্জার লাইট ও প্রয়োজনে জেনারেটর রাখতে হবে। পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে মণ্ডপের বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি। বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে।
গুজব প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নয়, উৎস শনাক্ত করে আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। আজান ও নামাজের সময় মণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
ডিসি আরও জানান, নিরাপত্তা প্রস্তুতি মহালয়া থেকেই শুরু করতে হবে। ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মণ্ডপে পানি জমতে দেওয়া যাবে না, আর মণ্ডপ ঘিরে মেলা, জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।