শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহ্দী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সার্বজনীন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, শ্রমিকের সার্বিক অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকার।
পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সফররত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, তাদের এই সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা নির্ধারণে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নবনির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে। শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলওর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ নম্বর কনভেনশন অনুমোদন করেছে।
শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করা, শ্রমবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করা। এর মাধ্যমে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। শ্রমজীবী মানুষের জীবনে সরকারের অঙ্গীকারগুলোর বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটানোই এর লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
শিল্প খাতে শান্তি এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও কার্যকর সামাজিক অংশীদারত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইটিইউসির মহাসচিব লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুন প্রমুখ।
