EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমর হত্যা, ৫ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ফরিদপুর

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমর হত্যা, ৫ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
অ অ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার পাঁচ বছর পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই বলছে, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে পাঁচজন মিলে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার এক মাস পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে থাকা বিশেষ আলামতের সূত্র ধরে দীর্ঘ সময় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নজরুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিল বলে জানায় পিবিআই।

গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে তারা একসঙ্গে মাদক সেবনও করে।


ঘটনার দিন রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় ধারালো চাকু দিয়ে তাকে জখম করা হয়। পরদিন রাতে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে যায় তারা।

নজরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন