যাত্রাবাড়ীতে ১০ লাখ টাকার হেরোইনসহ নারী গ্রেপ্তার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার নারীর নাম মাসুমা খাতুন (৬৫)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসে করে এক নারী হেরোইন নিয়ে ঢাকায় আসছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে ডিএনসির একটি দল ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের মাঝের আসনে বসা সন্দেহভাজন নারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় মাসুমা খাতুন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কাছে হেরোইন থাকার বিষয়টি জানতে পারে ডিএনসি। সংস্থাটির নারী সদস্যদের সহায়তায় তার পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই পলিব্যাগে ১০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা খাতুন দাবি করেছেন, তিনি যশোর থেকে হেরোইনের চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তার মেয়ে তাহমিনার চাপ ও নির্দেশনাতেই তিনি মাদক বহন করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে একইভাবে আরও দুবার হেরোইন বহন করেছেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মাসুমা।
ডিএনসি জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে তাহমিনার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। তাহমিনার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারে বয়স্ক নারী বা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের পরিকল্পিত কৌশল রয়েছে কি না, মাদকের উৎস ও গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় মাসুমা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ক্রমিক নং ৮(গ) অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার তদন্তের পাশাপাশি জব্দ করা হেরোইন, মোবাইল ফোনের তথ্য, গ্রেপ্তার নারীর দেওয়া বক্তব্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।