EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জলঢাকার মাদ্রাসায় দ্বন্দ্ব, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

ডেইলি সান রিপোর্ট, নীলফামারী

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

জলঢাকার মাদ্রাসায় দ্বন্দ্ব, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

লক্ষ্মীমাড়াই দাখিল মাদ্রাসা। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার লক্ষ্মীমাড়াই দাখিল মাদ্রাসায় দাতা সদস্যের দাবি নিয়ে মাহবুবার রহমান মিষ্টার ও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট কবির হোসেনের মধ্যে বিরোধ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘দিন দিন মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলেছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান। এমন ভীতিকর অবস্থায় আমি আমার সন্তানকে ওই প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’

লক্ষ্মীমাড়াই দাখিল মাদ্রাসার নিরাপত্তাপ্রহরী ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে আব্দুল ওয়ালিদ ও তার মা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ওয়ালিদগংদের তৈরি করা ভীতিকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। এই মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা আমরা কেউই নিরাপদ নই।’

জানতে চাইলে লক্ষ্মীমাড়াই দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট কবির হোসেন বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। মাদ্রাসায় আজীবন দাতা সদস্য দাবি করা প্রতিপক্ষ মাহবুবার রহমান মিষ্টার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। যখন তখন যেকোনো ইস্যু তৈরির মাধ্যমে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে তার লোকজনদের অনধিকার প্রবেশ করিয়ে আমাকেসহ অন্যান্যদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, চিৎকার-চেঁচামেচিসহ ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে। ইতোপূর্বে প্রতিপক্ষরা প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার অর্ধনির্মিত মেইন গেট ভেঙে দিয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছি। প্রতিপক্ষরা ইতোপূর্বে আমার কাছে টাকা পাবে মর্মে দাবি করে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চালায়। এ সংক্রান্তে আমি প্রতিপক্ষদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করি, যার ডিজি নম্বর-১২০২, যেটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষ মিষ্টার নিজেকে মাদ্রাসার দাতা সদস্য দাবি করেন। তিনি তার লোকজনদের নিয়ে যখন-তখন মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ঢুকে নানা ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি দাতা সদস্য নন।’

অভিযোগের বিষয়ে মাহবুবার রহমান মিষ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি সানকে বলেন, ‘আমার বাবা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। আমার বাবার মৃত্যুর পরে আমি আজীবন দাতা সদস্য। মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে তার সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব হয়। আর এ কারণে ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি (সুপার) রাতের অন্ধকারে যোগসাজশ করে আমাকে আজীবন দাতা সদস্য থেকে বাদ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন বিষয়টি জানতে পেরেছি, তখন সুপারের বিরুদ্ধে বোর্ড থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করতে শুরু করলাম। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোর্ড থেকে তদন্তের চিঠি আসছিল, সেই চিঠিও সুপার গায়েব করেছিলেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন