ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
উদ্ভাবনী তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক সুদের হার কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।
এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল। নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। এটি ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই আয়োজিত আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করছেন। সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র অর্জনের পর তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সুবিধার অপব্যবহার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিগত লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।