তুরস্কে ১০০ শতাংশের বেশি রপ্তানি বেড়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তুরস্কে বাংলাদেশ ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
অর্থাৎ দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যের সম্ভাবনা
তুরস্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এর পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামও দেশটির বাজারে যাচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বাড়ার ফলে দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।
তার মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য তুরস্ক এখন সম্ভাবনাময় একটি বাজার। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।
ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তুরস্কের বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের শক্তিশালী শিল্প ও পরিশোধন সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক খাতে কাঁচামাল সরবরাহে সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে তুরস্কের অর্গানিক তুলা ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে আরও সক্ষম করে তুলতে পারে।
২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ও তুরস্কের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বড় পরিসরে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশেরই। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বর্তমান প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তুরস্কের বাজারে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মতো সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়া দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের বাড়তি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের পথও সহজ হবে।
সূত্র: বাসস