ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি এবং আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় নক করে থাকা ব্যক্তিদের বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় নক করার পর দীর্ঘ সময়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়।
পরে আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহযোগিতায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে দরজা খুললে তারা ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি আনসার সদস্য ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পরে শাহবাগ থানায় খবর দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, সকালে নারীদের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি ওই কক্ষের দরজায় কয়েকবার নক করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি রাসেল ও কামাল নামে আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়ে বিষয়টি দেখতে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে তারা ওই নারীকে দেখতে পান।
এদিকে একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ ছুরিটি দেখতে পান।
সন্তোষ জানান, রক্তমাখা ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই এলাকার মেঝে পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের একটি টয়লেট থেকে একজন নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার খবর পান। পরে প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের বাইরে রক্তমাখা একটি ছুরি পড়ে থাকার বিষয়টিও জানতে পারেন।
তিনি বলেন, কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে মেঝেতে রক্তের দাগ এবং আশপাশে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত ছিল না। হাসপাতালে রোগীদের বিভিন্ন কারণে মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকতে পারে—এমন ধারণা থেকে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়।
সহকারী পরিচালক আরও জানান, ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে ছুরি ও রক্তের দাগের বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং রক্তমাখা ছুরিটির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।