গণতন্ত্র টেকসই করতে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: সিইসি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারীদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত, গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই করতে হলে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, নারীদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে শুধু নির্বাচন কমিশন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করলেই নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু আইন করলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন আইন মেনে চলার বিষয়ে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন।
‘তাই শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, অন্যান্য অংশীজনের প্রতিশ্রুতিও অত্যন্ত জরুরি’—বলেন সিইসি।
তিনি বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ শুধু নির্বাচনেই নয়, সমাজের সব ক্ষেত্রে ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয়-সামাজিক বিশ্বাসকে বিবেচনায় নিয়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
দেশের বাস্তবতা ও সামাজিক মূল্যবোধ বিবেচনায় না নিয়ে কোনো কৌশল নির্ধারণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। তাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয়-সামাজিক বিশ্বাসকে মাথায় রেখে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনটি তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীরা সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের হওয়ায় ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। নিজেদের পক্ষে ভোট নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সিইসি। অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতাও এ ধরনের প্রবণতার ইঙ্গিত দেয় বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করে সিইসি বলেন, একদিকে নারী ভোটারের সংখ্যা অনেক, অন্যদিকে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।
সিইসি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে শুধু ভোটার হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারী জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই হবে।