কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম শুরু: মাহ্দী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
কর্মসংস্থান বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি দেশের বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল কাজ হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানকে এক জায়গায় আনা। একদিকে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য থাকবে। অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার তথ্য থাকবে। দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয় করে একটি জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
এই প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণদেরও চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
দেশজুড়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান মাহ্দী আমিন। বলেন, জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। এর আওতায় সিভি লেখা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণে প্রার্থীদের যুক্ত করা হবে।
বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণদেরও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। নিবন্ধনের পর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—দুই পক্ষই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে পারবেন। কোনো তরুণ তাঁর ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহ্দী আমিন বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে অপপ্রচারে যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক কম।
তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন বিনিয়োগও হচ্ছে। নতুন কারখানা চালু হচ্ছে। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কত কর্মসংস্থান হবে, জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কাজ চলছে।
বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে মাহ্দী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।