EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দেশে অগ্নিঝুঁকিতে ৩৯৩৮ ভবন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

দেশে অগ্নিঝুঁকিতে ৩৯৩৮ ভবন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২৫ সালে সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩১৬টি স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩ হাজার ৯৩৮টি স্থাপনা অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৬ হাজার ৫৯৫টি স্থাপনার অবস্থা সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাসসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ভবনের জরুরি বহির্গমন পথ, ব্যবহারযোগ্য সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবল ও ডেডিকেটেড ফায়ার অফিসার রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ভবনের আইনগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও পরীক্ষা করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, ভবন পরিদর্শনের সময় মূলত অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। সংস্থাটিতে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং উইং না থাকায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি) ভিত্তিতে তৈরি চেকলিস্ট অনুযায়ী একটি স্থাপনা সন্তোষজনক, ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরিদর্শনে সিঁড়ির সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতা, সিঁড়ি ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত কি না, চলাচলের পথ বাধামুক্ত কি না এবং জরুরি সময়ে নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখা হয়। সিঁড়িতে মালামাল রেখে চলাচলের পথ বন্ধ রাখাকেও ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কার্যকর কি না এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শন করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি শ্রেণির আলাদা হিসাবও দেওয়া হয়েছে। ৬৫২টি সরকারি ভবনের মধ্যে ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৪৭৩টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। 

এক হাজার ৫৩৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এক হাজার ৫৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ ছাড়া এক হাজার ৭১টি রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এক হাজার ১৭১টি শপিং মল ও মার্কেটের মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৯১টি কেমিক্যাল গোডাউনের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে এসব শ্রেণির সংখ্যা ১০ হাজার ৫৩৩টি পরিদর্শিত স্থাপনার পূর্ণ শ্রেণিভিত্তিক হিসাব নয়। তাই এসব সংখ্যাকে মোট ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার পূর্ণ হিসাব হিসেবে ধরা যাবে না। মোট ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা ফায়ার সার্ভিসের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী যথাক্রমে ৩ হাজার ৩১৬ ও ৬২২টি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণের পরও অনেক ভবনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফলে অনেক ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, আগুন শনাক্তকরণ সেন্সর, ফায়ার ডোর ও জরুরি বহির্গমনের মতো ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। তাই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত মনিটর করা প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি। তাই অবকাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনবিসি অনুসরণ করে ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলে ভবনকে অগ্নিঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন