EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থ’

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থ’

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক খেলার দাবার বোর্ড হতে চায় না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বাকি বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা এবং অংশীদারত্ব করতে প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে আমাদের নিজেদের শর্তে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল ভিত্তিই হলো জনগণের স্বার্থ’’।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবারের সম্মেলনের মূল স্লোগান- ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’।

সেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অতীতের ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও অতীতে উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘আমরা জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। দেশের ভেতরেই আমাদের নিজস্ব গ্যাস এবং এলএনজি-এর বড় উৎস রয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে অবহেলার কারণে কখনো অনুসন্ধান করা হয়নি।’’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে সেই অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সবসময়ই এই বিষয়ে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল আচরণ করেছে। তবে বিপুল এই শরণার্থীর চাপ এখন দেশের অর্থনীতির ওপর একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার, বন্ধু রাষ্ট্র, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে নিরলসভাবে কথা বলছি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি সম্মানজনক, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন যেন দ্রুত সম্ভব হয়, সেজন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বৈশ্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।’’

আরও পড়ুন