EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জলঢাকায় মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত মিস্টার

ডেইলি সান রিপোার্ট, নীলফামারী

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

জলঢাকায় মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত মিস্টার

মাদ্রাসায় হামলার নেতৃত্ব দেন আব্দুল ওয়ালিদ। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

অ অ

নীলফামারীর জলঢাকায় লক্ষ্মীমারী আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাহবুবার রহমান মিস্টারের বিরুদ্ধে। তাঁকে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. কবির উদ্দিনকে হুমকি দেওয়া, তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং সর্বশেষ মাদ্রাসায় হামলার চেষ্টা করার অভিযোগও করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে আব্দুল ওয়ালিদের নেতৃত্বে মিস্টারের পরিবারের সদস্যরা ও  কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মাদ্রাসায় হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফরহাদ আহত হন। পরে তাঁকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট কবির উদ্দিন জানান, মাহবুবারের হুমকি এবং মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ২৩ জুন জলঢাকা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। জিডির নম্বর ১২০২। এতে তাঁকে হুমকি দেওয়া ও মাদ্রাসার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা চাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিষয়ে মাহবুবার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারামারির ঘটনা স্বীকার করেন। তবে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।

কবির উদ্দিনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে মাহবুবারের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন হয়। ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় ২০১৬ সালে মাহবুবারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন তিনি। মামলাটির নম্বর ০৬/১৬। এ মামলায় মাহবুবার প্রায় দেড় মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানান কবীর উদ্দিন। তাঁর দাবি, আগামী মাসে মামলাটির চূড়ান্ত রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

কবির উদ্দিনের অভিযোগ, মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে তাঁকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে মাহবুবার মাদ্রাসাটি দখলের চেষ্টা করছেন।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাহবুবার বিভিন্নভাবে কবির উদ্দিনকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নে মাদ্রাসার মাঠে কবীর উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।

তবে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন আব্দুর রাজ্জাক।

মাদ্রাসার ক্লার্ক মোস্তফা জানান, গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। সর্বশেষ ২০২০ সালে চতুর্থ শ্রেণির একটি পদে একজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়েও কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সুপার এককভাবে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত সদস্যদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত বা সদস্য নির্বাচনের জন্য তাঁকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়।

মাদ্রাসায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কবির উদ্দিন। তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর করা অভিযোগ—দুটিরই তদন্ত হওয়া উচিত। কাগজপত্র যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন