মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়ানো, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি বাড়াতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ দুটি খাতকে রপ্তানিমুখী করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং খামারিদের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারে খামারিদের সচেতন করতে হবে।
দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন মাংস রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে। দেশে ইতিমধ্যে ১৩টি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে ঋণ, উৎপাদন উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।