সরেজমিনে অতিরিক্ত সচিব
জামালপুর ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, জামালপুর
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২য় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ এবং উপসচিব হাসান সাদী প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, ‘সরকারের হায়ার অথরিটির নির্দেশে প্রকল্পটি দ্রুত সক্রিয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্যই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। প্রকল্পটি জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের একটি বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা জটিলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে অ্যাকশন প্ল্যান নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী অগ্রগতি হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন নূর আহমেদ।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরপিসিএল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ শুরু করার অনুমতি প্রদান করে। প্রকল্পের অগ্রগতি, পুনর্বাসন কার্যক্রম, কারিগরি প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেই এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
পরিদর্শনের শুরুতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত সচিব আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বাসন-সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে প্রকল্পের মূল কাজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় ডিপিপি সংশোধন এবং প্রকল্পের কার্যপরিধি পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আরপিসিএলের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস রহমান এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন আহমেদ প্রকল্পের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও প্রযুক্তিগত উপাদান কার্যপরিধি থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
সভায় আরও জানানো হয়, ওই ডিস্কোপিংয়ের ভিত্তিতেই সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে একনেক কর্তৃক তা অনুমোদিত হয়। তবে বাদ দেওয়া কার্যক্রমগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে দাবি করা হয়। ফলে প্রকল্পটির নির্ধারিত নকশা, সক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ আগস্ট একনেক সভায় সংশোধিত আকারে ১ হাজার ৬১২ কোটি ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি পুনরায় অনুমোদন পায়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সংযোজিত হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।