জানুয়ারিতে ইউপি ভোট শুরু, রোজার আগেই তিন ধাপে নির্বাচন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোজা শুরুর আগেই তিন ধাপে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা ভাবছে কমিশন। তবে ভোটের তারিখ ও কোন কোন এলাকায় কোন ধাপে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কমিশন সভায়।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গত বুধবার বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমরা ইউপি নির্বাচন শুরু করব ইনশাআল্লাহ। কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’
আগামী বছরের ৮ অথবা ৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে রহমানেল মাছউদ বলেন, রোজা শুরুর আগেই তিন ধাপের নির্বাচন শেষ করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের ৬০ জেলার সদর উপজেলা এবং কিছু ক্ষেত্রে জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে নির্ধারিত এলাকাগুলোর সব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ইসির সিনিয়র সচিবকে জানানো হয়েছে। বাস্তবতা ও আইন-কানুন পর্যালোচনা করে ইসি সচিবালয় উপজেলাগুলো চূড়ান্ত করবে।
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এতে নির্বাচন আয়োজনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো সামনে এসেছে। এখন চূড়ান্ত গাইডলাইন তৈরি করা হবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময় জানিয়েছিল, আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় তারা। সে অনুযায়ী গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে কমিশন।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্বাচনের সময় চূড়ান্ত করার কথা ছিল। ওই সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন না করে জানুয়ারিতে আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা এবং জাতীয় দিবসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সভা শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে—এ বিষয়ে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ কম। পাশাপাশি রমজানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
সম্প্রতি একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করা কমিশনের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নির্বাচন করার উপযোগী। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখন জানুয়ারিতেই নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। তার আগে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হয়। এবার কমিশন সভার সিদ্ধান্তের আগেই সম্ভাব্য সময়ের কথা জানানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের নির্বাচনী শাখা সূত্র জানায়, আগের ঘোষণা অনুযায়ী ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলো ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। কোন কোন উপজেলার ইউপিতে ভোট হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর আগে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল; এতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়, কয়েকটি ইউপির নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলার তিনটি করে উপজেলার ইউপিগুলো প্রথম ধাপে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কুমিল্লায় ১৮টি এবং চট্টগ্রামে ১৫টি উপজেলা রয়েছে। যেসব জেলায় ১০টির বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলা থেকে দুটি করে উপজেলা বাছাই করা হবে।
ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, সিলেট ও কিশোরগঞ্জে ১৩টি করে উপজেলা রয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া, সুনামগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ১২টি করে এবং নওগাঁয় ১১টি উপজেলা রয়েছে। এসব জেলা থেকে আরও ১২টি উপজেলা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যেসব উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়েছে, সেসব উপজেলা থেকে ছয়টি উপজেলা নেওয়া হবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
-6abe3c77569b6.jpg)