প্রবীণদের নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ চান রাষ্ট্রপতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এ বাস্তবতায় প্রবীণদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি ও জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবীণরা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করাকে সবার অঙ্গীকার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সবশেষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
-6abcd2c18905f.jpg)