EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

এআই-রোবটিক্স গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তা দেবে সরকার: জহির উদ্দিন স্বপন

দেশের চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

এআই-রোবটিক্স গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তা দেবে সরকার: জহির উদ্দিন স্বপন

নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণায় সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রযুক্তিবিদদের বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরি করতে হবে। এ কাজে গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোবটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার প্রসারে নীতিগত সহায়তার কথা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব, তার পথনকশা ও কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই দিতে হবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসের মতো অর্থনীতির প্রতিটি খাতে এটি বড় পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিগত ঘাটতি মেটাতে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথাও মনে করিয়ে দেন স্বপন। তিনি বলেন, বিদেশের এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। দেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরি করতে হবে।

‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর সমাপনী পর্বে বাস্তবমুখী এআই প্রকল্প উপস্থাপন শেষে সনদ ও সম্মাননা হাতে প্রশিক্ষণার্থীরা।

এ কাজে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিপিইউ চালানোর সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের অভাবের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রাখতে হবে বলেও জানান তিনি। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সঠিক গবেষণার ওপরও জোর দেন উপদেষ্টা। তরুণ প্রযুক্তিবিদদের প্রযুক্তিগত উদ্দীপনার পাশাপাশি গবেষণায় মনোযোগ দিতে বলেন তিনি।

স্বপন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-কে তিনি তরুণদের জন্য নতুন মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।

তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করতে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। এর আয়োজক ইউএপি, জাপানের চোয়া জিকেন কর্পোরেশন ও এআই সামুরাই জাপান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। সভাপতিত্ব করেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।

সমাপনী পর্বে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্প উপস্থাপন করেন। পরে তাঁদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন