তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির মতবিনিময়
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ শিক্ষা চালুর লক্ষ্যে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল, অঞ্চলভিত্তিক ভাষার চাহিদা ও কোর্সের ধরন নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইউজিসিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা করা হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান সক্ষমতা, রিসোর্স ম্যাপিং ও প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদার তথ্য দ্রুত ইউজিসিকে জানাতে বলা হয়।
তৃতীয় ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা চালু করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক চাহিদা বিবেচনায় ভাষা নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)–এর তথ্য যাচাই করে রিসোর্স ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভাষা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
সভায় তৃতীয় ভাষার নন-ক্রেডিট কোর্সের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক অন্তত একটি ভাষায় ক্রেডিট কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বেকারদের জন্য ছয় মাস মেয়াদি ভাষা কোর্স চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ভাষাশিক্ষক তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমে মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কোর্স করার সুযোগ তৈরি, কারিকুলামে শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা, যৌথ গবেষণা এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকীকরণে তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
শিল্পবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়ে নতুন বিভাগ বা একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ওই পোর্টালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।