বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে কোনো হিডেন (গোপন) এজেন্ডা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাইরের কোনো চাপের মুখে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এমন ধারণা নাকচ করে দেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন কবির এ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘বোয়িং কেনা হয়েছে একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। এখানে কোনো হিডেন (গোপন) এজেন্ডা নেই।’
যাত্রীচাহিদা এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনা হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–হোয়াইট হাউসের নির্দেশে ৪ জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে।’
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখানে লুকানো কোনো এজেন্ডা নেই ও খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে।
প্রয়োজনে বাংলাদেশ আরও বোয়িং কিনবে উল্লেখ করে এই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’
বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট আবার চালু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে একটি কারিগরি মূল্যায়ন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। সরকার এখন এটি আবার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের মধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮।
নতুন চুক্তির ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের মোট উড়োজাহাজ ক্রয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫। এর আগে এ বছরের এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
