EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বারিধারায় শ্রমিক নিহত

সমাজ একটি ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে: আদালত

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

সমাজ একটি ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে: আদালত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ি উঠে নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম নিহতের মামলায় ১৭ বছর বয়সী কিশোর আজান আলী শরীফের অধিকতর জামিন শুনানি আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

শুনানির সময় বিচারক বলেছেন, ‘সমাজ একটি  ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।’

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। কিশোরের পক্ষে পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা। আসামি কিশোর হওয়ায় এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা।

তবে বিচারক বলেন, মামলাটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সব দিক দেখে আদেশ দেওয়া হবে। ওই দিনই জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে বলেও জানান তিনি।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘ঘটনাটি কিন্তু অনেক গুরুতর। সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সমাজ একটি ন্যায়বিচার দেখতে চায়।’ তিনি জানান, মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ সময় নিহতের বড় ভাই, বাবা ও মামা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জামিন হলে তাদের আপত্তি নেই বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে আজান আলী শরীফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানার আওতাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার পর গাড়ি থেকে এক কিশোর বের হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদীর গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে আজান আলী শরীফ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে বলে পুলিশ জানায়।

আরও পড়ুন