দ্রুত বিচার নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির
বিচারিক কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি
ডেইলি সান রিপোর্ট, সিলেট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
সিলেট বিভাগের চার জেলায় কর্মরত বিচারকদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিচারিক কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের হলরুমে সিলেট বিভাগের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার আদালতে কর্মরত বিচারকেরা বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধান বিচারপতি।
বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধান বিচারপতি।
আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিচারকদের নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে Monitoring Committee for Subordinate Courts-এর সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরা বক্তব্য দেন। তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারসেবা, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।