রাজধানীর রাড্ডা সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৪
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তবে ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন।
ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। শনিবার দুপুরে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছিল, মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে হানিফ মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। সেখানে সরকারি ইপিআই কর্মসূচিও পরিচালিত হতো।