EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

হাজীমারা সুইসগেটে পর্যটনের সম্ভাবনা

অবকাঠামোগত উন্নয়নই পারে লক্ষ্মীপুরের পর্যটন অর্থনীতি বদলে দিতে

হাজীমারা স্লুইসগেটকে ঘিরে পরিকল্পিত পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে বদলে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র

ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

অবকাঠামোগত উন্নয়নই পারে লক্ষ্মীপুরের পর্যটন অর্থনীতি বদলে দিতে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি, নদীতে নৌযানের চলাচল, জোয়ার-ভাটার খেলা আর বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের রক্তিম আভা—সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের হাজীমারা স্লুইসগেট এলাকা প্রকৃতিনির্ভর এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শুধু বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্রের অভাবে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন স্পটটির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি এই অঞ্চলকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

লক্ষ্মীপুরের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে রায়পুরের হাজীমারা স্লুইসগেট এবং সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠেছে। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া এই দুই এলাকার সম্ভাবনা যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৃথক লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি পর্যটন স্পটের তালিকায় দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের হাজীমারা স্লুইসগেটের নাম রয়েছে। বিশাল মেঘনার পাড় থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, জোয়ারের গর্জন এবং নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা দেখতে প্রতিদিন, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে, শত শত দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন। কোনো কৃত্রিম বিনোদনকেন্দ্র ছাড়াই এলাকাটি প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

হাজীমারা স্লুইসগেটকে ঘিরে পরিকল্পিত পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে বদলে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির পুরো চিত্র। পর্যটকদের কেন্দ্র করে এখানে তৈরি হতে পারে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।

ক্ষুদ্র ব্যবসা: দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত মানের রেস্তোরাঁ, চা-কফির দোকান, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল এবং হস্তশিল্পের দোকান গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।

সেবামূলক খাত: স্থানীয় তরুণদের জন্য স্পিডবোট বা নৌভ্রমণ সেবা, ট্যুরিস্ট গাইড এবং পরিবহন খাতে আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে।

নারী ক্ষমতায়ন: ঘরের তৈরি খাবার, কুটির শিল্প ও দেশীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মেঘনা পাড়ের হাজীমারা স্লুইসগেট লক্ষ্মীপুর তথা পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন