অগ্রাধিকার কর্মসূচি তদারকিতে ৬৪ জেলায় বিশেষ দল গঠন
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের অগ্রগতি দেখবেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
বাংলাদেশ সচিবালয়। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মসূচি সরেজমিনে তদারকি করতে দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ পরিবীক্ষণ দল গঠন করেছে সরকার। আদেশের সঙ্গে থাকা ১৫ পৃষ্ঠার তালিকায় জেলাভিত্তিক সদস্যদের নাম ও যোগাযোগের তথ্য আছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দলগুলোর একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে দলগুলো গঠিত হয়েছে। বেশির ভাগ দলে তিন বা চার সদস্য থাকলেও কিছু জেলায় সদস্য পাঁচ থেকে সাতজন।
আদেশ অনুযায়ী, বিশেষ পর্যবেক্ষণ দলগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা। প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত হলে তা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে দলগুলোকে।
এ ছাড়া সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করবে এসব দল। একই সঙ্গে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ এবং প্রতি শনিবারের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে তাদের। স্থানীয় প্রশাসনকে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের তদারকির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. শাহেদ মোস্তফাকে দলনেতা করে তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। এই দলের অন্য দুই সদস্য হলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব সোহেল আহমদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজাবে রহমত।
এছাড়া ফরিদপুর জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুলতানা রাজিয়াকে প্রধান করে চার সদস্যের এবং হবিগঞ্জ জেলার জন্য চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার দলে রয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্মসচিব সামিহা ফেরদৌসী, অর্থ বিভাগের উপসচিব আল-ইমরান রুহুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হারুন-অর-রশিদ ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অভিজিৎ সূত্রধর।
সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার জন্য গঠিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবীক্ষণ দলের দলনেতা করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বেগম মুর্শেদা জামানকে। এই দলের বাকি সদস্যরা হলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফাহিম ইকবাল জাগীরদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
একইভাবে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার জন্য ৫ সদস্যের একটি পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে, যার দলনেতা হয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব ফাতেমা তুল জান্নাত।
চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামকে দলনেতা করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মসূচি তদারকির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খন্দকার নুরুল হককে দলনেতা করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি বিশেষ পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে কাজের সুবিধার্থে পরিবীক্ষণ দলগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলায় যাদের স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে, সেসব কর্মকর্তাদেরই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ পরিবীক্ষণ দলগুলোর কাজ শুধু কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা, গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ তাদের নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১৬ তারিখ এবং পরবর্তী মাসের ১ তারিখে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় এসব প্রতিবেদন আপলোড করতে হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি এবং নিয়মিতভাবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাজের সুবিধার্থে দলনেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সদস্যদের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব এককভাবে ভাগ হয়ে যাবে। এছাড়া কোনো জেলা বা উপজেলার কার্যক্রমে অসংগতি ধরা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিদর্শনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে আদেশে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিশেষ দলগুলোকে সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তা সমাধানের দায়িত্বও থাকবে এই দলগুলোর ওপর। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এই পর্যবেক্ষণ কাঠামোর সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের সরাসরি সমন্বয়ের এই উদ্যোগটি দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবার নেওয়া হলো।