EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ন্যায্য অর্থায়নের আহ্বান বাংলাদেশের

ডেইলি সান রিপোর্ট, নিউইয়র্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ন্যায্য অর্থায়নের আহ্বান বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ন্যায্য ও সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের পর দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফোর্থ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) লিডার্স মিটিং অন ডেভেলপমেন্ট রিসেট অ্যান্ড কোঅপারেশন’-এ বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (ইউএনজিএ ৮১) পার্শ্ববৈঠক হিসেবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ার ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি। এতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

বক্তব্যে ড. সাইমুম পারভেজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, উচ্চতর লক্ষ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও উন্নয়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মতামত আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আগামীকালের শিরোনাম নয়; এটি আজ আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ ও দাবি তুলে ধরতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ড. সাইমুম। ২০১১ সালের ঢাকা ডিক্লারেশন থেকে ২০২১ সালের ঢাকা-গ্লাসগো ডিক্লারেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে আনতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ড. সাইমুম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যখন ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলে, তখন বিশ্ব আর মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না।”

বৈঠকে ‘ভিটুভি কমপ্যাক্ট’ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে কোনো দেশের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে চাপ তৈরি হলে তা মোকাবিলায় দ্রুত অর্থ সহায়তার জন্য প্রস্তাবিত ‘লাইফলাইন ফান্ড’-এর প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানান।

ড. সাইমুম বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে একটি বড় জলবায়ু দুর্যোগ কয়েক বছরের উন্নয়ন অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বৈঠকে ভিটুভি কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়া, লাইফলাইন ফান্ড কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ড. সাইমুম।

তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি)’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান।

জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ঋণের চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ড. সাইমুম বলেন, ঋণের চাপে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে।

আসন্ন কপ-৩১ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন ড. সাইমুম।

এগুলো হলো—সহজ শর্তে, নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা; লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি কার্যকর করে দ্রুত অর্থ ছাড়; ঋণের চাপ কমানো ও সহজ শর্তে অর্থায়ন বাড়াতে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কার; এবং জলবায়ু বিষয়ে জবাবদিহি বাড়াতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামত কাজে লাগানো।

তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে যেন স্কুল নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু মোকাবিলার প্রস্তুতির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও কার্যকর করতে হবে।

বক্তব্যের শেষে ড. সাইমুম আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু মোকাবিলার উদ্যোগকে সবার জন্য টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে।

আরও পড়ুন