EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অসহায় মানুষের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

অসহায় মানুষের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক
অ অ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই জন্ম আল-আমিন ভূঁইয়ার (৩৩)। পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারেন না। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আজ বুধবার দুই হাতে ভর দিয়েই গিয়েছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। তবে তাকে খালি হাত ফেরাননি জেলা প্রশাসক। তাৎক্ষণিকভাবে তার হাতে তুলে দেন ব্যবসার আর্থিক সহায়তা। 

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে আল-আমিন কৃতজ্ঞতা জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি।

আল-আমিনের মতো আরও অর্ধশতাধিক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে অংশ নেন। জমি, চিকিৎসা, আর্থিক সংকট, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও এলাকার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান তারা।

জেলা প্রশাসক একে একে তাদের কথা শোনেন। সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন।

গাজীপুর মহানগরের দীঘিরচালা এলাকা থেকে বাবার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চাইতে এসেছিলেন পোশাকশ্রমিক সানিয়া আক্তার (২৫)। তিনি জানান, তার বাবা মজিদ মিয়া লেগুনাচালক ছিলেন। ছয় বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী।

সানিয়ার মা মারা গেছেন ১১ বছর আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোনের লেখাপড়া ও বাবার চিকিৎসার খরচ চালাতে তাকে চাকরি নিতে হয়েছে।

সানিয়া জানান, তার বেতন দিয়ে ঘরভাড়া, সংসারের খরচ ও বোনের পড়াশোনার খরচ মেটাতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। অর্থের অভাবে বাবার চিকিৎসাও বন্ধ রয়েছে।

সানিয়ার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তার বাবার চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেন। একই সঙ্গে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ থাকা টঙ্গীর বাসিন্দা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বৃদ্ধা সামসুন্নাহারকেও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকার বিধবা হালিমা আক্তার। ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি গণশুনানিতে এসেছিলেন।

হালিমা জানান, চার মাস আগে তার স্বামী মারা গেছেন। ছেলে না থাকায় ভাসুরসহ স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে ও তার মেয়েকে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এমনকি ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও তিনি সমস্যার সমাধান পাননি।

হালিমার অভিযোগ শুনে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে দায়িত্ব দেন জেলা প্রশাসক।

এ ছাড়া অধিগ্রহণ করা জমির বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ক্ষতিপূরণ, এলাকার সড়কের সমস্যা, অফিস স্থাপন, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা, অগ্নিকাণ্ডে বাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বাসস্থানের সংকট এবং কারখানার বকেয়া বেতন আদায়সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ গণশুনানিতে আসেন।

জেলা প্রশাসক এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার গণশুনানি করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানান। তাদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক ও অসহায়। অনেকের সন্তান থাকলেও তারা খোঁজ নেন না। আবার কারও দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের সমস্যা শুনে তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি। বেশির ভাগ সমস্যাই জমিজমা, আর্থিক সংকট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত।

অসহায় মানুষকে সহায়তা করার জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। জটিল রোগের চিকিৎসায় সমাজসেবা বিভাগ, গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক বিভাগ এবং প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট, বিআরটিএ ও জেলা ত্রাণ বিভাগ থেকেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব সরকারি কর্মসূচি ও বিভাগের মাধ্যমে অসহায় মানুষ যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন