EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পুলিশের ওপর নজরদারি করতে বসিয়েছিল ২০ সিসিটিভি, অবশেষে কবুতরের ঘর থেকে হ্যাকার গ্রেপ্তার

ডেইলি সান রিপোর্ট, নাটোর

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

পুলিশের ওপর নজরদারি করতে বসিয়েছিল ২০ সিসিটিভি, অবশেষে কবুতরের ঘর থেকে হ্যাকার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত বসিয়েছিলেন ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ আসা মাত্রই টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ির ভেতরে কবুতরের ঘরের মধ্যে তৈরি করেছিলেন এক বিলাসবহুল এসি বাঙ্কার বা আস্তানা। নজরদারি এড়াতে ৭টি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম। তবে প্রযুক্তির এত জাল বিছিয়েও শেষরক্ষা হয়নি নাটোরের লালপুরের কথিত 'হ্যাকিং সম্রাট' ওহিদুল মোল্লা ওরফে ওহিদের (৩২)।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওহিদুল মোল্লা মূলত ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং চক্রের মূল হোতা। এলাকায় তার অধীনে গড়ে উঠেছে কয়েক শত হ্যাকারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার কারণে সবাই তাঁকে হ্যাকিংয়ের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ বলে মানেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, নির্বিঘ্নে হ্যাকিং ও অনলাইন প্রতারণা চালাতে ওহিদুল নিজের প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়িতে শত শত কবুতর রাখার বড় একটি ঘর তৈরি করেন। বাইরে থেকে সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও, সেটির ভেতরেই তিনি বানিয়েছিলেন গোপন শোবার ঘর। সেখানে ব্যক্তিগত আয়েশের জন্য ছিল দামি আসবাব, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।

এমনকি পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার মনিটরও বসিয়েছিলেন। ওই গোপন আস্তানায় বসেই তিনি মানুষের আইডি হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। অভিযানের সময় ওহিদুলের আস্তানা থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড এবং ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।

জব্দ করা সিম কার্ডগুলোর নম্বর ও হিসাব একটি সাদা কাগজে নিখুঁতভাবে ছক কেটে সাংকেতিক চিহ্নে লিখে রাখা ছিল। যার মাধ্যমে কোন সিম দিয়ে বিকাশ বা নগদের টাকা লেনদেন হতো তা নজরে রাখতে ওহিদুল।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গ্রেপ্তার ওহিদুলের বিরুদ্ধে লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ওহিদুল মোল্লা ছাড়াও আসামি করা হয়েছে তাঁর পাঁচ সহযোগীকে। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন