EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তেলের দাম সমন্বয়ে সরকারের বিকল্প ছিল না: প্রিন্স

ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

তেলের দাম সমন্বয়ে সরকারের বিকল্প ছিল না: প্রিন্স
অ অ

ময়মনসিংহে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরকারকে তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিকল্প সরকারের সামনে ছিল না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের হরি কিশোর সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশেও বক্তব্য দেন তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতা এবং বিরোধী দলের ‘লাগামহীন বক্তব্য ও দুরভিসন্ধিমূলক রাজনীতির’ প্রতিবাদে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে দুই স্থানেই প্রতিবাদ মিছিল হয়। মিছিলগুলোতে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিএনপির নেতারা অংশ নেন।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু এমপি। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ এমপি, বিএনপি নেতা ফখরুদ্দীন আহমেদ বাচ্চু এমপি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম ও শহিদুল আমিন খসরুসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

ধুরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন। এতে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মাসুম বিল্লাহ, সরোয়ার হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মনজুরুল হক মঞ্জু ও শহিদুল্লাহ মাস্টারসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনে জনগণের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও তারা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না। তাদের কোনো ছাড় নেই।’

নাশকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকাবাসীকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গতিবিধি নজরে রাখতে হবে। কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইলে স্থানীয়ভাবে তা প্রতিহত করতে হবে এবং প্রশাসনকে জানাতে হবে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে যারা তাদের নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তারা তাদের ছাত্র-জনতার ওপর লেলিয়ে দিয়েছিলেন। পরে তাদের জনগণের তোপের মুখে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তারা একবারও তাদের কথা ভাবেননি।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকায় ওই নেতারা সেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। আর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন। অতীতের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, তাদের অনুশোচনাও নেই। এখন আবার সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করিয়ে তারা নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলছেন। তাই তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাশকতায় না জড়ানোর আহ্বান জানান।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে প্রিন্স বলেন, ‘ডিসেম্বরে নয়, আজকেই তিনি আসতে পারেন। আমরা হাতকড়া নিয়ে স্বাগত জানাব।’ তিনি বলেন, ‘নয় মন ঘি-ও পুড়বে না, রানাও নাচবে না।’

জামায়াত-এনসিপি জোটের সমালোচনা করে প্রিন্স বলেন, রহস্যজনকভাবে আওয়ামী লীগের চলমান সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের নেতাদের বক্তব্য বা কোনো কর্মসূচি নেই। তাঁদের সব বক্তব্য ও কর্মসূচি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাত মাস বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার ও রাজাকারদের মধ্যে নতুন করে ‘রাখী বন্ধন’ হলো কি না, জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জনগণ এই দুই পরাজিত শক্তির ‘রাখী বন্ধন’ দেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যার সমাধান ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলটি সংঘাতে জড়াতেও চায় না। বিএনপি গণতান্ত্রিক সহনশীলতা, উদারতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাস করে। তবে সেই উদারতা ও সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবার কারণ নেই।

দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘যেই সন্ত্রাস করবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে—তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে জনগণের নির্বাচিত সরকার চায় জনগণের ওপর চাপ যতটা সম্ভব কম থাকুক। কিন্তু দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রায় জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বাংলাদেশের তুলনায় প্রতিবেশী ভারতে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে পাচার ঠেকাতে সরকার তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এর অন্য কোনো বিকল্প সরকারের সামনে ছিল না। এর পরও সরকারকে লিটারপ্রতি ৭০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।’

প্রিন্স বলেন, ‘সরকার খুশি মনে নয়, দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

মূল্য সমন্বয়ের বিরূপ প্রভাব যেন জনগণের ওপর সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সে জন্য সরকার মনিটরিং করছে বলে জানান তিনি। পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যাতে অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রিন্স বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হলেও উড়োজাহাজ থেকেই তিনি এসব বিষয় তদারক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই,’ বলেন তিনি।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বাস্তব পরিস্থিতি তাদের অজানা নয়। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য শুধু হইচই করে বিরোধিতা করলেই হবে না। বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব দিতে হবে। কোথা থেকে অর্থের সংস্থান করে, কীভাবে ভর্তুকি দিয়ে অথবা কী বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানির দাম রাখা যায়, তা বিরোধী দলের বলা উচিত।’

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা গঠনমূলক ও ইতিবাচক হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন