EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বলছে আইএমএফ

শিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশ বেকার, চাপ বাড়াবে এআই

প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ স্নাতক ডিগ্রিধারী

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ এএম

শিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশ বেকার, চাপ বাড়াবে এআই

বাংলাদেশে দ্রুত স্নাতক ডিগ্রিধারী বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান না তৈরি হওয়ায় শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশ বেকার। আইএমএফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষতা বাড়ার তুলনায় এআই গ্রহণের গতি বেশি হলে তরুণ কর্মীদের ওপর শ্রমবাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। এশিয়াজুড়েই তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশ বেশি। বেশি শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের চিত্র প্রতিবেদনে আছে।

আইএমএফ বলছে, এআই প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। তবে এর গ্রহণের গতি দক্ষতা বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

গত ২০ বছরে স্নাতক ডিগ্রিধারী অনেক বেড়েছে। ২০১০ সালে শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল স্নাতক ডিগ্রিধারী। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। অর্থাৎ এক যুগে স্নাতক ডিগ্রিধারী আড়াই গুণ বেড়েছে।

তবে চাকরির বাজার খুব একটা বদলায়নি। অর্থনৈতিক কাঠামোও একই আছে। নতুন স্নাতকদের কাজে নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি।

প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ স্নাতক ডিগ্রিধারী। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, দেশে বেকার আছেন ২৬ লাখ ২৪ হাজার। তাঁদের মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজার তরুণ-তরুণী, যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। এই বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী।

বিবিএসের তথ্য বলছে, চাকরিপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরের বেশি সময় বেকার থাকেন। আরও ১৫ শতাংশের বেশি বেকার থাকেন এক থেকে দুই বছর। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনে একজন এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকেন।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ভারতে এই হার ৪০ শতাংশের বেশি। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে হার ২০ শতাংশের বেশি।

আইএমএফ বলছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তাই আগামী বছরগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

সংস্থাটির মতে, সমস্যা শুধু বেকারত্বের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও স্নাতকদের দক্ষতার মধ্যে স্থায়ী অসামঞ্জস্য রয়েছে। এখন এআই মডেল দিয়ে বিনা মূল্যে অনেক জটিল কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতনভুক্ত অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি পদের প্রয়োজন কমছে।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। অর্ধশতাব্দীর বেশি আগে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা তরুণ-তরুণী ছিল প্রায় ৫০ কোটি।

এর আগে গত জুনে বিশ্বব্যাংকের দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে, এই তরুণ-তরুণীরা সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুবগোষ্ঠী হবে। সংখ্যাটি আগের যেকোনো দশকের চেয়ে বেশি হবে। এই শতাব্দীর বাকি সময়ের যেকোনো দশকের পূর্বাভাসের চেয়েও তা বেশি হবে।

আরও পড়ুন