সুনামগঞ্জে অপহরণের দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। এব্যাপারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাইছেন তার পরিবার।
অপহরণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী উপজেলার তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার পিতা শাকিল পারভেজ (৩৬) তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৬ জুলাই অপহরণ করা হয় শিক্ষার্থীকে। ওই স্কুলছাত্রীর পিতা মেয়েকে উদ্ধারে ও শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য গত ২০ আগষ্ট তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং -১/২৬।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, স্কুল পড়ুয়া তাবাসসুম ইয়াছমীন সিম্মিকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে কুপ্রস্তাবসহ উত্যক্ত করতো অভিযুক্ত স্থানীয় যুবক শেখ মহসীন এলিন পাশা। এই বিষয়টি তাবাসসুম তার পরিবারকে জানায়। পরে তার পিতা অভিযুক্ত মহসীন এলিন পাশার পরিবারকে জানালে তারা উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অশালীন আচরণ করে।
এরপরই গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকাল সাড়ে ৯ টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে চিকসা গ্রামের বাসিন্দা শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় শেখ মহসীন এলিন পাশাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করে।
ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা শাকিল পারভেজ জানান, ঘটনার দুইমাস পেরিয়ে গেলেও আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়াও মামলার আসামীদের আটকও করছে না। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে।
তিনি তার মেয়েকে উদ্ধারে সুনামগঞ্জ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ এসআরবি, ডিবির সহযোগিতা কামনা করেন।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণ হয়েছে। এই বিষয়ে আমাকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই জানায়নি, আপনার মুখে শুনলাম।
পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে জানালে প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ সকলের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, আমাদের পক্ষ থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও মামলার আসামীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।