বিরোধী দল ক্ষমতা পরিবর্তনের শর্টকাট পথ খুঁজছে: প্রিন্স
ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বিরোধী দলের নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য অসহিষ্ণু ও দুরভিসন্ধিমূলক। তাদের এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির বদলে তারা ক্ষমতা পরিবর্তনের শর্টকাট পথ খুঁজছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় নাগদাড়া নদীর ওপর বিএনপি নেতা জুয়েল করিম নির্মিত কাঠের সেতু উদ্বোধন শেষে পূর্ব কাওয়ালীজান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সাত মাস বয়সী সরকারপ্রধানকে ‘হেলিকপ্টারে পালানোর’ কথা বলা কিংবা ‘পদত্যাগের’ হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটের রায়কে অবজ্ঞা করার শামিল। এসব কর্মকাণ্ড তাঁদের ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘অপরিপক্ব নেতাদের পক্ষেই এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া সম্ভব।’ জনগণের রায়কে যারা অসম্মান করে, তারা দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের অসহিষ্ণু আচরণ, উসকানিমূলক বক্তব্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতি গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ড পতিত আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির আগের রাতে ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর মতে, এসব ঘটনাই বিরোধী দলের রাজনীতির ধরন সম্পর্কে প্রমাণ দেয়।
জনসমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘জোর করে যেমন কাঁচা কাঁঠাল পাকানো যায় না, তেমনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে জোর করে স্বৈরাচার আখ্যা দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে স্বাধীনভাবে কথা বলার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে। সরকার তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করছে। অথচ সেই সুযোগ নিয়ে সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ বলা কিংবা নির্বাচিত সরকারকে ‘এক দফা’ আন্দোলনের হুমকি দেওয়া স্বৈরাচারী মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ।
এমরান সালেহ বলেন, সরকারের উদারতা ও সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। সহনশীলতা দুর্বলতা নয়, উদারতা আত্মসমর্পণ নয়। সরকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যেমন দায়িত্বশীল, তেমনি জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রক্ষায়ও দৃঢ় ও কঠোর হতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, জনগণের সমস্যার সমাধানের বদলে বিগত নির্বাচনে পাওয়া ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তারা। নির্বাচনের সাত মাসের মাথায় নির্বাচিত সরকারকে আন্দোলনের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম মৌলিক শর্ত।
এমরান সালেহ বলেন, নির্বাচনে জনগণ কেন তাদের ক্ষমতায় বসায়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পরিবর্তে জনগণের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে জনগণের সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার জন-প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠন এবং জনগণকে উন্নত জীবন, স্বস্তি ও শান্তি দিতে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পর জনগণ এখন শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নত জীবন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বস্তি চায়। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্রের পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ও দেশের অগ্রগতি চায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের এই প্রত্যাশাকে সম্মান করা উচিত।
বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। সরকারকে সমালোচনা করা, জনগণের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন তাদের অধিকার। তবে জনগণকে জিম্মি করে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কিংবা সংঘাত ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করে রাজনীতি করার অধিকার কারও নেই।
নড়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এমরান সালেহ বলেন, তারেক রহমানের সরকারের সময়ে এসব সমস্যার পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। তিনি নাগদাড়া নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
নড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় জনসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও শফিকুর রহমান, বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, গাজিরভিটা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জেলা জাসাসের সিনিয়র সহসভাপতি কায়সার রাব্বি আরাফাত, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মশিউজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, জুয়েল করিম, শহীদ উল্লাহ, জুয়েল খান, আলী আজম খান ও ফরিদ আহমেদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিজয় ফরাজীর বাবা সায়েদুল ফরাজী, বিএনপি নেতা আবুল ফজল এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি খোকন মিয়া।