নভেম্বরেই ইউপি ভোট? মিলছে না ‘স্লট’, নতুন জটিলতায় নির্বাচন কমিশন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু নভেম্বর-ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় এখন সেই ভোট আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত ‘স্লট’ বা সময়ই মিলছে না। ফলে নভেম্বরেই ইউপি ভোট শুরু হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এবার বিশেষত্ব হচ্ছে, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়েই প্রায় পরীক্ষা। খুবই কম গ্যাপ পাওয়া গেছে। আমরা দুটি জায়গায় গ্যাপের কথা বলেছিলাম। কিন্তু আজকের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো আদৌ সম্ভব কি না, এখন আবার দেখতে হবে।’
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা শুরু হতে পারে। রোজা শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর জুনের ৬ তারিখ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে সব মিলিয়ে নির্বাচনের জন্য সময় খুবই সংকুচিত।
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইউপি নির্বাচন ৬ জুনের আগেই শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরীক্ষার সময়সূচি ও শিক্ষকদের দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসি কমিশনার বলেন, একজন শিক্ষককে নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের জন্য অন্তত এক সপ্তাহ প্রয়োজন হয়। একই সময়ে তাদের পরীক্ষা মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজও করতে হয়। পরীক্ষায় যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়টি কমিশন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় নির্ধারণে বাজেট পরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আরও কিছু সমন্বয় প্রয়োজন। এসব কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
এর আগে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশেষ কমিশন সভা শেষে ইউপি নির্বাচনের সাত ধাপের একটি প্রাথমিক সময়সূচি জানিয়েছিলেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে ভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই সময়সূচি ছিল ‘টেন্টেটিভ’ বা প্রাথমিক। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নভেম্বরে ভোট শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন একা এটা বলতে পারব না। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চিঠি পেয়েছি। এগুলো নিয়ে কমিশনে বসব। আরও কয়েকটি সমন্বয় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ধাপের সংখ্যা বেশি হলে কমিশনের হাতে সময় ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নমনীয়তা থাকে। তবে আইন মেনে যতগুলো ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব, সেভাবেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন।
