ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় সাক্ষ্য
‘চারজনকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়’
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে হত্যার ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের মামলায় এ সাক্ষ্য দেন তিনি।
মেজর সাব্বির সাক্ষ্যে বলেন, ২০১০ সালের মে মাসে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন জিয়াউল আহসানের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড করে র্যাব ৮ এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা।
সাক্ষ্যে মেজর সাব্বির বলেন, পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে ফিশিং ট্রলারে মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও সাক্ষ্য দেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
তিনি জানান, ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের গলফ অপারেশনে জড়িত ট্রলার মাঝিদের মধ্যে একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।
গুমের মামলায় এখন পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা ও র্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে।
বিগত গত ১৬ বছরে এটিই প্রথম গুমের মামলা, যার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।