EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বেকারদের চাকরি, নিয়োগকারীদের কর্মী খুঁজে পেতে গঠন হচ্ছে নতুন অধিদপ্তর

মো. মাহবুব আলম

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

বেকারদের চাকরি, নিয়োগকারীদের কর্মী খুঁজে পেতে গঠন হচ্ছে নতুন অধিদপ্তর

চাকরি নিয়ে প্রতীকী ছবি

অ অ

একদিকে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের জন্য উপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে গিয়ে প্রায়ই হয়রানির শিকার হন, অন্যদিকে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়োগকর্তারা। শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দেশে ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ নামে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সূত্র জানায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠন করা হবে নতুন এই অধিদপ্তর। দেশে প্রথমবারের মতো এটি গঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে থাকা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের আদলে এটি তৈরি করা হবে।

একইসঙ্গে এই অধিদপ্তরের অধীনে একটি ‘কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র’ স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে অধিদপ্তর

প্রতিটি জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে অধিদপ্তর চাকরিপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে নিবন্ধন করবে। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের নিয়োগকারীদের চাহিদাও শ্রেণিভিত্তিকভাবে সংগ্রহ করা হবে।

প্রস্তাবিত অধিদপ্তর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবে, যা কেন্দ্রগুলোতে এবং বিদ্যমান সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে

এরপর কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকারীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ে সহায়তা করবে, যার ভিত্তিতে নিয়োগকারীরা চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়োগ সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত অধিদপ্তর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবে, যা কেন্দ্রগুলোতে এবং বিদ্যমান সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা

এই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই), বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিকেএমইএ) ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ও সরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। 

সূত্রমতে, প্রস্তাবিত অধিদপ্তর ও এর কার্যক্রম নিয়ে একটি খসড়াও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার আগে একটি নির্বাচিত জেলায় পাইলট কর্মসূচি চালানো হবে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে

মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

সেই কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ‘সভায় যুগ্মসচিব (কর্মসংস্থান) জানান, জাতীয় বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে তৃতীয় দফা পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে অধিদপ্তর ও এর অধীনে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেইলি সানকে বলেন, ‘অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার আগে একটি নির্বাচিত জেলায় পাইলট কর্মসূচি চালানো হবে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।’

‘পাইলট কর্মসূচি সফল হলে অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হবে’— বলেন ওই কর্মকর্তা।

প্রস্তাবিত কার্যক্রম

প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি ও কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন; শ্রমবাজারের চাহিদা মূল্যায়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম তৈরি; দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি পরিচালনা; নীতিনির্ধারণে সহায়তার জন্য শ্রমবাজারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডেটা চালিত সমন্বিত জাতীয় অনলাইন চাকরি পোর্টাল চালু; নিয়মিত কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ; কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি ও ক্ষুদ্র শিল্পে অঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থান সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ; নিয়োগকারী ও চাকরিপ্রার্থীদের সংযুক্ত করতে জাতীয় ক্যারিয়ার নির্দেশনা পরিষদ গঠন।

এ ছাড়া শ্রম সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান বিশ্লেষণ, নীতিনির্ধারণী জরিপ পরিচালনা, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং বেকার, প্রবাসফেরত শ্রমিক ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে পরিকল্পনায়।

খসড়ায় একটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হবে, যার আওতায় প্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিং চলাকালে চাকরিপ্রার্থীদের সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া হবে, যাতে তারা উৎসাহিত হন

পরিকল্পনায় আরও রয়েছে, অনলাইন, অফলাইন ও সরাসরি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার সহায়তা প্রদান; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও সদ্য স্নাতকদের সহায়তা; প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নীতি নিশ্চিতকরণ; চাকরি মেলা ও বিনামূল্যে চাকরি অনুসন্ধান সহায়তার আয়োজন; এবং আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা আনা।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে ডেইলি সানকে জানান, ‘খসড়ায় একটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হবে, যার আওতায় প্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিং চলাকালে চাকরিপ্রার্থীদের সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া হবে, যাতে তারা উৎসাহিত হন।’

আরও পড়ুন