নতুন রাস্তা কেটে জনভোগান্তি করতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে আবার কাটতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ করার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোডের রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর চরম কষ্টের পর এলাকার মানুষ নতুন রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় ওয়াসা এই নতুন রাস্তা আবার খুঁড়ে প্রায় ছয় ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চায়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে একাধিক সভা করে ওয়াসাকে বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে। জনগণকে আবার ভোগান্তিতে ফেলে এবং সরকারি অর্থ অপচয় করে এই রাস্তা কাটার অনুমতি তিনি দেবেন না।
প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরে আবদুস সালাম জানান, ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর চারটি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং চারটি সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত ও ১০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার, আটটি স্লুইস গেট, ছয়টি বাস-বে ও ছয়টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে।
প্রশাসক জানান, প্রকল্পের প্রথম ধাপের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ। এই ধাপের কাজ শেষে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে।
এই কাজ শেষ হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস ঢাকার মূল যানজটে না ঢুকে সরাসরি রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গে চলাচল করতে পারবে। এতে রাজধানীর পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট কমাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট, বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।