এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা, মামলা ২০টি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ সময় ২০টি মামলা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়।
গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে না পারার মতো অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব জেলার ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৫টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে সিলেটের খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরীর দুটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। অন্য প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় সাত দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দেশজুড়ে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
এ সময় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কর্মসূচি চালাচ্ছে বিএফএসএ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।’